পাবলিক অফার অব ইকুইটি সিকিউরিটিজ বিধিমালার গেজেট প্রকাশ

কাট অফ প্রাইসের চেয়ে বেশি দর দিলেও শেয়ার পাওয়া যাবে

পুঁজিবাজারে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে কোম্পানির তালিকাভুক্তির জন্য নতুন বিধিমালা চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

পুঁজিবাজারে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে কোম্পানির তালিকাভুক্তির জন্য নতুন বিধিমালা চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ বিধিমালায় বুক বিল্ডিং পদ্ধতির আইপিওর ক্ষেত্রে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের (ইআই) জন্য বিডিংয়ে কাট অফ প্রাইসের (প্রান্তসীমা মূল্য) চেয়ে বেশি দর দিলেও শেয়ার বরাদ্দের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে নির্দেশক মূল্যের ২৫ শতাংশ কম বা বেশি দর প্রস্তাব করার সীমা নির্ধারণ এবং দর নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংঘবদ্ধ ও অলিখিত যোগসাজশ করা হলে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

সম্প্রতি পাবলিক অফার অব ইকুইটি সিকিউরিটিজ বিধিমালা ২০২৫-এর গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত খসড়া বিধিমালা এবং এর আগের পাবলিক ইস্যু বিধিমালা ২০১৫-এর তুলনায় নতুন বিধিমালায় বেশকিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে আইপিও-পূর্ব পরিশোধিত মূলধন হবে ন্যূনতম ৩০ কোটি টাকা এবং আইপিও-পরবর্তী পরিশোধিত মূলধনের ন্যূনতম ১০ শতাংশ শেয়ার ছাড়তে হবে। এক্ষেত্রে আইপিও-পরবর্তী মূলধনের ন্যূনতম সীমা ৫০ কোটি এবং সর্বোচ্চ সীমা ১২৫ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে প্রিমিয়ামসহ শেয়ার ইস্যু করতে চাইলে সেক্ষেত্রে আইপিও-পরবর্তী পরিশোধিত মূলধন ১২৫ কোটি টাকার বেশি হওয়া যাবে না। তবে গ্রীনফিল্ড কোম্পানির ক্ষেত্রে অভিহিত মূল্য কিংবা ডিসকাউন্টে শেয়ার ইস্যু করতে হবে এবং আইপিও-পরবর্তী পরিশোধিত মূলধন ১২৫ কোটি টাকার বেশি হতে পারবে।

আইপিও আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে চূড়ান্ত বিধিমালায় বলা হয়েছে, স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ আইপিওর জন্য আবেদন করা কোম্পানির কারখানা কিংবা ব্যবসায়িক কার্যালয় পরিদর্শন করার পাশাপাশি জমা দেয়া আর্থিক প্রতিবেদন ও অন্যান্য নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখবে। আবেদন পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ তালিকাভুক্তির সুপারিশ কিংবা আবেদন বাতিলের সিদ্ধান্ত কারণসহ জানিয়ে দেবে।

চূড়ান্ত বিধিমালা অনুসারে, ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতির আইপিওর ক্ষেত্রে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের (ইআই) জন্য ১০ শতাংশ, মিউচুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রে ১০, আইপিওতে আসা প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী কর্মীদের জন্য ৫, উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তিদের জন্য ৫, অনিবাসী বাংলাদেশী ও অন্যান্য অনিবাসীর জন্য ৫ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ৬০ শতাংশ হারে কোটা সুবিধা রাখা হয়েছে। এর আগে খসড়া বিধিমালায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ৩৫ শতাংশ হারে কোটা সুবিধা রাখা হয়েছিল।

চূড়ান্ত বিধিমালায় বুক বিল্ডিং পদ্ধতির আইপিওর ক্ষেত্রে ইআইদের ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ, মিউচুয়াল ফান্ড ১০, আইপিওতে আসা প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী কর্মীদের জন্য ৩, অনিবাসী বাংলাদেশী ও অন্যান্য অনিবাসীদের জন্য ৫, উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তিদের জন্য ৭ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ৩৫ শতাংশ হারে কোটা সুবিধা রাখা হয়েছে। খসড়া বিধিমালায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ২৫ শতাংশ হারে কোটা সুবিধা রাখা হয়েছিল।

চূড়ান্ত বিধিমালায় পুঁজিবাজারে নতুন শেয়ার তালিকাভুক্তির সময় শেয়ারের লকইন নির্ধারণ করা হয়েছে। যেখানে উদ্যোক্তা, উদ্যোক্তা গ্রুপ, পরিচালকরা ও ৫ শতাংশ বা তার বেশি শেয়ারহোল্ডাররা তিন বছরের জন্য শেয়ার বিক্রি করতে পারবেন না। যদি কেউ মৃত্যুবরণ করেন তার উত্তরাধিকারীও বাকি সময়ের জন্য এ নিয়মের আওতায় থাকবে। যদি কোনো উদ্যোক্তা, উদ্যোক্তা গ্রুপ, পরিচালকরা তাদের শেয়ার অন্য কারো কাছে হস্তান্তর করেন সেটিও তিন বছরের জন্য লকইন থাকবে। এছাড়া বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে প্রাপ্ত প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর শেয়ার তিন ধাপে লকইন থাকবে। ৫০ শতাংশ শেয়ারের ক্ষেত্রে ৯০ দিন, ২৫ শতাংশ শেয়ারের ক্ষেত্রে ১২০ ও বাকি ২৫ শতাংশ শেয়ারের ক্ষেত্রে ১৮০ দিন লকইন থাকবে। খসড়া বিধিমালায় বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ার বরাদ্দ পাওয়া ইআইদের ক্ষেত্রে ১৮০ দিনের লকইন আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছিল।

স্ট্র্যাটেজিক বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিনিয়োগের তারিখ থেকে দুই বছর বা স্টক এক্সচেঞ্জে প্রথম ট্রেডিং থেকে এক বছর লকইন থাকবে। অন্য ধরনের সিকিউরিটিজ থেকে রূপান্তরিত শেয়ারও একই নিয়মের আওতায় থাকবে।

আরও